সকলপ্রশংসা মহান আল্লাহ পাকের জন্য এবং দরুদ ও সালাম মহানবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সা.-এর উপর। বনী আদমের আবাসভূমির পুরোটাতেই যখন বিরাজ করছিল গোমরাহীর অন্ধকার, তখন আল্লাহ তাআ’লা অন্ধকারাচ্ছনড়ব এ ধরায় হেদায়তের আলো বিকিরণে এখানকার মধ্যাকাশে প্রেরণ করেন সর্বাধিক আলোকময় নূরের রবি রহমতে-আলম হযরত মুহাম্মদ সা. কে। বিশ্বময় হেদায়তের আলো ছড়িয়ে নূরের এ মহান রবির অস্তাচলে যাওয়ার সন্ধিক্ষণে বিদায় হজ্বে আরাফার ময়দানে সমবেত হলেন তাঁরই পরশে ধন্য হেদায়তের আলোকবর্তিকা লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরাম। ময়দানজুড়ে পিনপতন নীরবতা, আখেরী নবীর নসীহতসমূহ শুনতে সবাই উৎকর্ণ। রহমতে দু’আলম তাঁর নিজ হাতে গড়া সোনালী মানুষদের এ বিশাল সমাবেশে অন্যান্য নসীহতের সাথে এ ঘোষণাও দিয়েছিলেন: “তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত তারা অনুপস্থিতদের নিকট আমার বাণী পৌঁছে দেবে”।
প্রিয় নবীর এ বাণী অক্ষরে অক্ষরে তা’মীল করলেন নবীর রঙ্গে রঙ্গিন এ সোনালী কাফেলা। দ্বীনের দাওয়াতে বাড়ি-ঘর ছেড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিনড়ব পৃথিবীর বন্ধুর পথসমূহ অতিμম করে হেরার আলো পৌঁছে দিলেন সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তামাম জাহানের আনাচে-কানাচে।
মাদরাসাতুল মাদীনা গতানুগতিক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়। সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে জামিয়া সাজিয়েছে তার পাঠনদান পদ্ধতি। শিশু শ্রেণী থেকে শুরু করে সবোর্চ্চ দাওরায়ে হাদীস, ইফতা, তাফসীর, উলূমুল হাদীস, ইসলামের ইতিহাস, আরবী ও বাংলা সাহিত্য সহ বিভিন্নিমূখী পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন করে চতুর্মূখী যোগ্যতাসম্পন্ন বিচক্ষণ আলেমে দ্বীন জতিকে উপহার দেওয়ার সুখ্যাতি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে গেছে। সব মিলিয়েমাদরাসাতুল মাদীনা বহু বিভাগ সমন্বিত একটি মহা প্রকল্প।
দ্বীন ও শরিয়াতের দাবী রক্ষা করে আপনার কাছে আল্লাহর আমানাত আপনার সন্তানকে আপনি
দ্বীনী তালীম হাছিলের মহান উদ্দেশ্যে মাদরাসায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আপনাকে আমাদের মোবারকবাদ।
আল্লাহ যেন আপনার সন্তানকে ইলমে দ্বীনের জন্য কবুল করে নেন। আল্লাহ যেন তাকে আপনাদের চোখের শীতলতা
এবং রুহের ঠান্ডাক বানান। কোরআন ও সুন্নাহর ইলম অর্জনের সাধনায় আত্মনিয়োগকারী একজন তালিবে ইলমের
আদর্শ মা এবং বাবা যেন আপনারা হতে পারেন। উম্মতের এই সন্তানদেন তালীম ও তারবিয়াতের উত্তম ব্যবস্থা যেন
আমরা করতে পারি। আল্লাহ আমাদেরকে সবাইকে তাওফীক দান করুন। আমীন।
